বটিয়াঘাটার নদীতে ইলিশের দেখা নেই, ঋণের জালে আবদ্ধ জেলেরা দিশেহারা

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি

মৌসুম শেষের দিকে হলেও বটিয়াঘাটার নদীতে ইলিশের দেখা মিলছে না। জালে মাছ ধরা না পড়ায় ৬২০ জন ইলিশ জেলে ঋণের ফাঁদে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৩৭৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ জেলের সংখ্যা ৪৩২৬ জন এবং মহিলা জেলের সংখ্যা ৫২ জন। এদের বাইরেও অনিবন্ধিত জেলে রয়েছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মোট ৪৩৭৮ জন জেলের মধ্যে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে সরকারি প্রণোদনা সহায়তা প্রদান করেন ২০৪১ জনকে। এরা প্রত্যেকেই ৭৭ কেজি ৩০০ গ্রাম করে ভিজিডি কার্ডে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার কাজিবাছা, ঝপঝপিয়া ও সুরখালী ইউনিয়নের ভদ্রা এই ৩ টি নদীতে প্রায় ৬২০ জন ইলিশ জেলে ইলিশ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু চলতি ইলিশ মৌসুম শেষের দিকে আসলেও বটিয়াঘাটার নদীতে কোনো ইলিশের দেখা নেই। প্রত্যেক ইলিশ জেলে প্রায় বিভিন্ন এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ ও দাদন নিয়ে জাল, নৌকা, ট্রলার ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে ইলিশ আহরণ করতে নদীতে নেমেছে পড়েছে।

ইলিশ মৌসুম শেষ হবার সময় হয়ে এসেছে, অথচ নদীতে কোনো ইলিশের দেখা নেই। তাই বর্তমানে ইলিশ জেলেদের জালে ইলিশ মাছ ধরা না পড়ায় ঋণের জালে আবদ্ধ হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অন্যদিকে ইলিশ মাছের প্রজননের ‘মা’ ইলিশ সংরক্ষণকালীন সময় কাছে এসে গেছে। সে কারণে সামনে প্রায় ১৮ দিন ‘মা’ ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে মাছ ধরা, সরবরাহ ও মজুত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এজন্য সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর ৬২০ জন ইলিশ জেলেদের ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে। যা ইলিশ জেলেদের প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

এ ব্যাপারে ইলিশ জেলে রথিন মল্লিক বলেন, আমি এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ ও দাদন নিয়ে ইলিশ ধরা জাল ও নৌকা তৈরি সহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে নামতে প্রায় ৮০-৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইলিশ মৌসুম শেষ হবার সময় হয়ে এসেছে। কিন্তু নদীতে কোনো ইলিশের দেখা নেই। ইলিশ মাছ ধরা না পড়ায় ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছিল। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘মা’ ইলিশ ডিম ছাড়তে নদীর মিষ্টি পানিতে ছুটে এসে ডিম ছেড়ে আবার সমুদ্রের গভীর পানিতে চলে যায়। উক্ত ‘মা’ ইলিশ সানদী জালে মাছের ডিম ও মাছের বাচ্চার কোনো ক্ষতি করে না। ইলিশ মাছের ডিম ও মাছের বাচ্চার ক্ষতি করে ভেন্দি জালে। অথচ প্রশাসন আমাদের ইলিশ জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ করে দেয়। এতে আমরা ইলিশ জেলেরা অর্থনৈতিক ভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোঃ সেলিম সুলতান বলেন, বটিয়াঘাটায় নদীগুলোতে প্রচুর পরিমাণে নৌযান চলাচল করে। পাশাপাশি নদীগুলোতে পলি জমে নদীর নাব্যতা হারিয়ে গেছে। যে কারণে নদীগুলোতে ইলিশের আবাসস্থল হারিয়ে গেছে। তবে চলতি ইলিশ মৌসুমে শেষের দিকে ইলিশ মাছ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন